Published : 18 Jul 2026, 01:15 AM
মহাবিশ্বের বিশাল নীরবতার মাঝে গ্রহগুলোর গভীরে লুকিয়ে আছে কোটি কোটি বছরের অজানা রহস্য। এই রহস্য উন্মোচনের লক্ষ্যে বিজ্ঞানীরা যুগ যুগ ধরে মঙ্গল গ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের সন্ধান করছেন। মঙ্গল গ্রহে অবতরণের প্রায় চৌদ্দ বছর পর, নাসার কিউরিওসিটি রোভার এক চাঞ্চল্যকর ছবি পাঠিয়েছে, যা বৈজ্ঞানিকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এই ছবিতে মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠে এমন কিছু ভূতাত্ত্বিক কাঠামো দেখা গেছে, যা অনেকটা মৌচাকের মতো বহুভুজ আকৃতির। এই অদ্ভুত গঠনের উৎস নিয়ে বিজ্ঞানীরা এখন গভীর সংশয়ে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, কিউরিওসিটি রোভার গেইল ক্রেটার অঞ্চলের অনুসন্ধান চলাকালীন এই ছবি তুলেছে। এই কাঠামোটি দেখতে বিশাল মৌচাকের উপরিভাগের মতো।
এই অঞ্চলের গভীরে গেলে দেখা যায়, বহুভুজাকৃতির পর্বতশিখাগুলো ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। এই পুরো এলাকা জুড়ে নুড়ি থেকে মাঝারি আকারের কালচে রঙের পাথর ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। বিজ্ঞানীদের মনে এখন এক বিরাট প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—এই পাথরগুলো কীভাবে সেখানে এলো? এ কি মঙ্গল গ্রহের কোনো উপরের স্তর থেকে নিচে নেমে এসেছে? নাকি কোনো দূরবর্তী মহাজাগতিক আঘাতের ফলে এখানে ছিটকে পড়েছে? অথবা এগুলো কি মঙ্গল গ্রহের বাইরের কোনো উল্কাপিণ্ড? এই অদ্ভুত ভূতাত্ত্বিক গঠনের সঠিক উৎপত্তি এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, মঙ্গল গ্রহে শতকোটি বছর ধরে আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ, জলের প্রবাহ, পলিমাটির সঞ্চালন এবং বাতাসের ক্ষয়ের মতো প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া এই কাঠামো গঠনে ভূমিকা রেখেছে। এই প্রক্রিয়াগুলোর যেকোনো একটি অথবা সম্মিলিতভাবে এই বহুভুজ আকৃতির সৃষ্টি করতে পারে। এই কাঠামোর গঠন প্রক্রিয়া বুঝতে পারলে মঙ্গলের প্রাচীন পরিবেশ সম্পর্কে আরও মূল্যবান তথ্য পাওয়া যাবে। এই কালচে পাথরগুলো নিয়ে আরও কিছু তত্ত্ব রয়েছে।
এগুলি হয়তো উপরের ভূতাত্ত্বিক স্তর থেকে ভেঙে নিচে গড়িয়ে এসেছে, অথবা প্রাচীন মহাজাগতিক সংঘর্ষ বা কোটি কোটি বছর আগে মঙ্গলে পতিত কোনো উল্কাপিণ্ড থেকে সৃষ্টি হয়েছে। পূর্ববর্তী রোভার অভিযানগুলোতেও মঙ্গলে নিকেলের মতো খনিজ উপাদানযুক্ত পাথর পাওয়া গিয়েছিল, যা সাধারণত উল্কাপিণ্ডে বেশি থাকে। মঙ্গলের সাধারণ পাথরে এই উপাদান বিরল। নতুন এই পাথরের উপাদানগুলো একই কিনা, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণার প্রয়োজন। ২০১২ সালে অবতরণের পর থেকে কিউরিওসিটি রোভার মূলত এই অঞ্চলগুলোতে পাথরের স্তর, প্রাচীন নদীগর্ভ এবং খনিজ আমানত পরীক্ষা করছে। রোভারের মূল লক্ষ্য ছিল মঙ্গল গ্রহে অণুজীবের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ ছিল কিনা তা জানা।সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া।